Home বৃহত্তর চট্টগ্রাম পার্বত্য চট্টগ্রাম পিয়ন দিয়ে চলছে পাঠদান, ৭ জন শিক্ষকের মধ্যে ৬ জন অনুপস্থিত

পিয়ন দিয়ে চলছে পাঠদান, ৭ জন শিক্ষকের মধ্যে ৬ জন অনুপস্থিত

234
0

মোঃজুবাইরুল ইসলাম, লামা(বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ

সাত জন শিক্ষকের মধ্য বিদ্যালয়ে প্রতিদিন আসে মাত্র ১ জন শিক্ষক। যিনি উপস্থিত থাকেন তার নাম জাকারিয়া। তিনি একজন সহকারী শিক্ষক। প্রধান শিক্ষকসহ বাকী ৫জন শিক্ষক সপ্তাহে দুয়েকবার এসে শিক্ষক হাজিরা খাতায় দস্তখত করে চলে যায় এবং মূলতঃ পিয়ন দিয়ে চলছে শ্রেণির পাঠদান।
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউপির ২ নং ওয়ার্ডের পোলাউ পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গেলে এসব চিত্র উঠে আসে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দিন দিন ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে। স্থানীয়রা জানায়, বিষয়টি এই বিদ্যালয়ের জন্য নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই চলে আসছে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম।

মার্চের ৯ তারিখ, বুধবার, সকাল ১১টায় সরেজমিনে বিদ্যালয়েটিতে গিয়ে দেখা যায়, মোট ৪টি ক্লাস চলমান রয়েছে। তার মধ্যে একটি ক্লাসে পাঠদান করছে জাকারিয়া নামের সহকারী শিক্ষক এবং পঞ্চম শ্রেণিতে পাঠদান করছে হাতারাম ত্রিপুরা নামের একজন পিয়ন। বাকী দুই ক্লাসে শিক্ষক শুণ্য অবস্থায় শিক্ষার্থীরা হৈহুল্লোড় করছে।

সহকারী শিক্ষক জাকারিয়া থেকে অন্যান্য শিক্ষকের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আজকে তারা ছুটিতে আছে। একটা বিদ্যালয়ে ৭ জন শিক্ষকের মধ্যে ৬ জন কিভাবে একসাথে ছুটিতে থাকে এই প্রশ্নের জবাবে সহকারী শিক্ষক জাকারিয়া কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। অনুপস্থিত শিক্ষক শিক্ষিকারা হলো, প্রধান শিক্ষক স্বপন চৌধুরী, সহকারী শিক্ষক মো: ফরিদ, এমরানুল হক, কেএম জসিমুল আলম মানিক, কামনা ত্রিপুরা এবং তহুরা খাতুন।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে জৈনক অন্য বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, ‘দুর দুরান্ত থেকে এই বিদ্যালয়ে বদলী হয়ে আসার জন্য অসংখ্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা আগ্রহ প্রকাশ করে শুধু এই সুযোগ ভোগ করার জন্য। কারন এখানে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে হয়না। এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় উপজেলা শিক্ষা অফিসারও তেমন আসে না। যদি কোন দিন শিক্ষা অফিসার আসার কথা থাকে, শিক্ষকরা আগে থেকে খবর পেয়ে উপস্থিত হয়ে যায় বিদ্যালয়ে। তাছাড়াও কয়েকজন সহকারী শিক্ষক প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে উপজেলা শিক্ষা অফিসারও কোন ব্যবস্থা নেয় না। ’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় বলেন, ‘ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মানসিক ভারসাম্যহীন একজন ব্যক্তি। প্রধান শিক্ষকের এই দূর্ভলতাকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা তাদের ইচ্ছামতো বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করে।’

এ ব্যাপারে কথা হয় বান্দরবান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শফিউল আলমের সাথে। তিনি প্রথমে যুগান্তরের প্রতিবেদকের সাথে মুঠোফোনে কথা বলে লাইন কেটে দিয়ে ঘটনা সত্যতা যাচাই করেন এবং পরক্ষণে প্রতিবেদককে মুঠোফোনে ঘটনা সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আপনার তথ্য সঠিক। তাদের বিরূদ্ধে অবশ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাদেরকে আমরা চৌকস করবো।

Previous articleগাড়ি চালকের দক্ষতায় প্রাণে বাঁচলেন বাঁশখালীর ইউএনও!
Next articleযায়যায়দিন ফ্রেন্ডস ফোরামের অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে চকরিয়ায়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here